বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
ad
বরখাস্ত মেয়রের স্ত্রী মিতুই কাটাখালীর নতুন মেয়র
ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯:০৬ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন রাবেয়া সুলতানা মিতু। তিনি এই পৌরসভার বরখাস্তকৃত মেয়র আব্বাস আলীর সহধর্মিণী।

ভোট গণনা শেষে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল রোববার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কাটাখালী পৌর নির্বাচনে রাবেয়া সুলতানা মিতু হ্যাঙ্গার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬ হাজার ৩০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু শামা নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৭ ভোট। আর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম রিপন তার মোবাইল ফোন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩৯ ভোট। এছাড়া সাবেক শিবির নেতা মিজানুর রহমান চামচ প্রতীকে ২ হাজার ৯১৭, জামায়াত নেতা সিরাজুল হক জগ প্রতীকে ৩৮৪, আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন রেল ইঞ্জিন প্রতীকে ১ হাজার ৮৮ এবং বিএনপি কর্মী জিয়ারুল ইসলাম ক্যারাম বোর্ড প্রতীকে ১২৭ ভোট পেয়েছেন।

এর আগে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাটাখালী পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কাটাখালী পৌরসভার এই উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র রাবেয়া সুলতানা মিতুসহ সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ৯টি। ভোটকক্ষ ছিল ৬২টি। মোট ২৩ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের মধ্যে ১৫ হাজার ৬৫০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

রাবেয়ার স্বামী আব্বাস আলী এই পৌরসভার সাবেক মেয়র। পর পর দুইবার আব্বাস আলী আওয়ামী লীগের টিকিটে এই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের নভেম্বরে মেয়র থাকাকালে পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন আহ্বায়ক আব্বাস আলীর একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। ঘরোয়া আলাপের ওই অডিও ভাইরাল হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তিনি দলীয় পদ হারান। রাজধানী ঢাকায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর কারাভোগও করেন। আর মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে তাকে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়।

এজন্য রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র পদের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আইনি বাধার কারণে আব্বাস আলী এই উপনির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও প্রার্থী করেন তার সহধর্মিণী রাবেয়া সুলতানা মিতুকে। আর মিতু জীবনে এবারই প্রথম কোনো নির্বাচনে অংশ নিলেন এবং বাজিমাত করলেন। আর স্থানীয়ভাবে তার স্বামী আব্বাস আলী যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাই বলা হচ্ছে, স্বামীর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে জীবনের প্রথম নির্বাচনেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরাশায়ী করতে পেরেছেন রাবেয়া সুলতানা মিতু।